কণাদ দাশগুপ্ত
কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের আগে সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নজরে রয়েছে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কিত NCPI এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান। তবে কোনও পক্ষের তরফেই আনুষ্ঠানিক জোটের ঘোষণা হয়নি।
মমতা তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের পুরভোটে ওয়ার্ডভিত্তিক সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কোনও ওয়ার্ডে মমতা তৃণমূলের প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করতে পারে, আবার অন্য কোনও ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে মমতা তৃণমূল, এমন সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কংগ্রেসের তরফে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীদের মতামত এবং হাইকমান্ডের নির্দেশের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। অন্য দিকে, জাতীয় স্তরে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের সমীকরণ স্থানীয় নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে NCPI-র অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
NCPI বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে যোগ দেওয়ায় পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে তাদের সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে NCPI-র যোগাযোগ রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা চলছে, তা অস্বীকার করেছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা অরূপ রায়। তাঁর বক্তব্য, NCPI আলাদা দল এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল পুরভোটে একাই লড়বে। ফলে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটে সম্ভাব্য জোট, আসন সমঝোতা এবং পৃথক ভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও অনিশ্চিত। দলগুলির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত জল্পনাই আপাতত প্রধান আলোচ্য বিষয়।




