ওয়েব ডেস্ক: পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় রাষ্ট্রপুঞ্জের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার এনডিটিভি আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট’-এ তিনি বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, কিন্তু আজকের চ্যালেঞ্জের সামনে তাদের সীমাবদ্ধতা এখন স্পষ্ট।
বর্তমান সময়কে ‘দু’টি বিশ্বব্যবস্থার মধ্যবর্তী পর্ব’ আখ্যা দিয়ে মোদি জানান, বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। নতুন শক্তির উত্থান হচ্ছে, জোরালো হচ্ছে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর। অথচ এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনও পরিবর্তন আসছে না। পুরানো নিয়ম আঁকড়ে থাকার ফলেই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি ব্যর্থ হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। নিরাপত্তা পরিষদের পুনর্গঠনের মতো জরুরি কাজ দ্রুত শেষ করার কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা, কারণ গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একটি রিপোর্টে ভারতে বিরোধী দল ও তরুণ প্রজন্মের ভোটচুরি আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়নের প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও জমায়েতের অধিকার’ বিষয়ক বিশেষ দূত জিনা রোমেরোর পেশ করা ওই রিপোর্টে বলা হয়, লিঙ্গভিত্তিক সমতা ও ন্যায়বিচারের মতো বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ভারতের যুবসমাজ প্রতিহিংসা, দমনপীড়ন ও কলঙ্কলেপনের মুখে পড়ে।
চলতি সপ্তাহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুজ স্বরূপ রিপোর্টটি খারিজ করেন। বুধবার সাধারণ সভায় ভারতের প্রতিনিধি, বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তাম্রাকর বলেন, মানবাধিকারকে কোনও দেশের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির বা নির্দিষ্ট দেশকে নিশানার অস্ত্র করা উচিত নয়। তার পরেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য উঠে এল।




