HomeScrollপুজোকেন্দ্রিক ব্যবসা বাড়ল বাংলায়, অনলাইন বিক্রির দাপটে চাপে ছোট দোকান ও হকাররা

পুজোকেন্দ্রিক ব্যবসা বাড়ল বাংলায়, অনলাইন বিক্রির দাপটে চাপে ছোট দোকান ও হকাররা

পুজোর আগের ৪৫ দিনে তাদের বিপণিতে ক্রেতাদের আনাগোনা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে

কলকাতা: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়লেও তার সুফল সব স্তরের ব্যবসায়ীর কাছে সমান ভাবে পৌঁছয়নি। বড় বিপণি, শপিং মল এবং ই-কমার্স সংস্থাগুলির বিক্রিতে বৃদ্ধি দেখা গেলেও অনলাইনে বিপুল ছাড়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাজারের ছোট ব্যবসায়ী ও হকাররা। সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে পুজোর অর্থনীতির এই বৈপরীত্য।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বার রাজ্যে প্রায় ১৩ হাজার বেশি দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়েছে। বড় পুজোগুলিতে বিজ্ঞাপনের চাহিদা বেড়েছে। এলইডি ডিসপ্লের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় বাজেটের পুজোয় বহিরঙ্গন বিজ্ঞাপনের দর অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে বিজ্ঞাপন শিল্পের প্রতিনিধিদের দাবি। অন্য দিকে, ছোট পুজোগুলিতে বিজ্ঞাপনের চাহিদা কম থাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ বিজ্ঞাপনের জায়গা অব্যবহৃত থেকে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের এক পদাধিকারী।

সংগঠিত বিপণিতেও কেনাকাটার ছবিটি ইতিবাচক। একটি শপিং মলের কর্তৃপক্ষের দাবি, পুজোর আগের ৪৫ দিনে তাদের বিপণিতে ক্রেতাদের আনাগোনা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। পোশাক, জুতো, প্রসাধনী এবং শিশুদের সামগ্রীর চাহিদাও ছিল যথেষ্ট।

তবে ই-কমার্সের বাড়বাড়ন্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রথাগত ব্যবসায়ীদের। বণিক সংগঠন কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনসের দাবি, উৎসবের মরসুমের প্রথম দু’দিনেই অনলাইন বিক্রি প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অনলাইন ও অফলাইন বাজারে একই পণ্যের দামের বড় ফারাকের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ডিজিটাল বাণিজ্যের বিরোধিতা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু মূল্য নির্ধারণে সমতা না থাকলে ছোট দোকান ও হকারদের অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হবে। ফলে পুজোর ব্যবসা বাড়লেও তার সুফল কতটা সর্বস্তরে পৌঁছেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments