ওয়েব ডেস্ক: শুধু বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ধর্ম পরিবর্তন সমর্থনযোগ্য নয়। মহারাষ্ট্রের নতুন ধর্মান্তরণ- বিরোধী আইন নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ করল বম্বে হাই কোর্ট। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের ইচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তনের স্বাধীনতা রয়েছে। জোর করে বা চাপ দিয়ে ধর্মান্তরণ করানোই রাজ্য সরকারের উদ্বেগের বিষয়।
মহারাষ্ট্রের নতুন ‘ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট, ২০২৬’-কে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন থানের ৭০ বছর বয়সি এক ইসলামি ধর্মপ্রচারক। তাঁর দাবি, এই আইন সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। আইনে ধর্মান্তরণের আগে ৬০ দিন নোটিস দেওয়ার বিধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত সেঠনার ডিভিশন বেঞ্চ শুনানিতে জানায়, ধর্মীয় স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে বিয়ের ঠিক আগে ধর্ম পরিবর্তনকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নিতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জোরজবরদস্তি বা অন্য কোনও অনৈতিক উপায়ে ধর্মান্তরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়েই রাজ্যের উদ্বেগ।
তবে আবেদনকারীর মামলায় নির্দিষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করে আদালত। আইনটির কারণে তাঁর ধর্মপ্রচার বা ধর্মীয় কার্যকলাপে কীভাবে বাধা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেশ করা হয়নি বলে জানায় বেঞ্চ।
শেষ পর্যন্ত আদালত বর্তমান আবেদনটি গ্রহণ করেনি। তবে পর্যাপ্ত তথ্য ও নির্দিষ্ট অভিযোগ-সহ নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে আবেদনকারীর। ফলে এই পর্যবেক্ষণকে মহারাষ্ট্রের আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।




