ওয়েব ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে ১৩ পার্বন। মায়ের আগমনে বাংলার চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দের জোয়ার । আজ বিজয়া দশমী। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর সময়। আরো একটা বছরের অপেক্ষা। কিন্তু রাজ্যের এক প্রান্তে দশমীর পরেই হয় এক বিশেষ উৎসব। দশমীর পর একাদশীতে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় ভাণ্ডানি বা বনদুর্গার পুজো।
কী এই ভাণ্ডানি পুজো? দশমীর দিন সন্তানদের নিয়ে সপরিবারে কৈলাসে ফিরে যান দেবী দুর্গা। ফেরার সময় ডুয়ার্সে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে এক রাজবংশী সম্প্রদায়ের পরিবারে আশ্রয় চান দেবী।
কিন্তু নিয়ম অনুসারে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ অচেনা কোনো মহিলাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয় না। ফলে দেবী একদিনের জন্য রাঁধুনী হিসেবে বাড়িতে থাকতে দিতে অনুরোধ করেন। পরদিন ফেরার সময় দেবী নিজের রূপ ধারণ করেন। সেই থেকে ডুয়ার্সে দশমীর পরদিন একাদশীতে ভাণ্ডানি পুজো অনুষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি, রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ বাঘের হাত থেকে বাচতে বনদুর্গা হিসেবে দেবীর আরাধনা করে থাকেন। ভাণ্ডানি দেবীর পুজোয় পায়রা, পাঁঠা বলি দেওয়া হয়।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে একাদশীতে ভাণ্ডানি পুজোর আয়োজন করা হয়। এই পূজা উপলক্ষে বেশ কিছু জায়গায় মেলাও বসে। দেবী দুর্গার বিসর্জনের পর ভাণ্ডানি আরাধনা এ মেতে উঠেন সকলেই।




