কণাদ দাশগুপ্ত
দলের আগে কোনও পদ নয়, সংগঠনই শেষ কথা। হাওড়ায় দলীয় অনুষ্ঠানে দুই বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে এভাবেই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পার্টি অফিসের নতুন ভবনের ভূমিপুজোয় তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, “পার্টিই প্রথম, পার্টিই শেষ কথা। পার্টি থাকলেই বিধায়ক, সাংসদ থাকবে।” একই সঙ্গে হাওড়া জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত দখলের লক্ষ্যে কর্মীদের ঝাঁপানোর নির্দেশ দেন তিনি।
দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি বিরোধীদেরও নিশানা করেন শমীক। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর কটাক্ষ, বাঙালিদের উপর আস্থা হারিয়েই তৃণমূলকে ওই এলাকায় মিছিল করতে হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এখন দিল্লিতে আরশোলা, টিকটিকিদের দলে ঢুকছেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের ডিম ছোড়ার হাত থেকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীকে হেলমেট দেওয়ারও পরামর্শ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সংখ্যালঘুদের বিজেপির দিকে এগিয়ে আসার দাবি করে শমীকের বক্তব্য, এই অংশের মানুষের সমর্থন দলের দায়িত্ব আরও বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “দায়িত্ব বড় হচ্ছে। আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।” রাজ্যে বিরোধীহীন পরিস্থিতি গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়ে শমীক অতীতের ভোট-পরবর্তী হেনস্তার প্রসঙ্গ তোলেন। তবে প্রতিহিংসার বদলে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান কর্মীদের। দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকা পুরনো কর্মীদের ভুলভ্রান্তি সত্ত্বেও ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ থেকে পঞ্চায়েত দখলের ডাক—শমীকের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর এ বার তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠনকে চ্যালেঞ্জ জানানোই বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য।




