Homeরাজ্যভোগের রান্না নিজেই করেন দেবী দুর্গা! কোথায়?

ভোগের রান্না নিজেই করেন দেবী দুর্গা! কোথায়?

৫০০ বছরের পুরনো মন্দিরের অজানা গল্প

ওয়েব ডেস্ক: পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। বর্ষার ঘনঘটা কাটিয়ে শরতের পেঁজা তুলোর মেঘের দেখা মিলেছে আকাশে। চারদিকে কাশের দোলা। মায়ের আগমনী বার্তা এখন দিকে দিকে। শহরের পাশাপাশি গ্রাম বাংলাতেও বিভিন্ন রূপে পুজো পান মা। বিভিন্ন নিয়ম মেনে পুজো করা হয়।

ঝাড়গ্রামে চিল্কিগড়ে কনক দুর্গা মন্দিরটি ৫০০ বছর পুরনো। এই মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা অজানা গল্প। এখানে মোষ ও পাঁঠা বলি প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, একসময় এই দুর্গামন্দিরে নরবলি দেওয়া হত। সারা বছরই এই দেবীর আরাধনা করা হয়। অত্যন্ত জাগ্রত এই দেবীর কাছে বহু মানুষ নিজের মনস্কামনা জানান। পুজোর চারদিন সমস্ত রীতি-নীতি ও আচার মেনে পুজো করা হয়। জানা গিয়েছে, অষ্টমীর রাতে দুর্গামন্দিরের পাত কুয়োর সামনে পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। নবমীর অন্য ভোগের আগে বলির মাংস নতুন মাটির হাঁড়িতে সেদ্ধ করা হয়। অষ্টমী পুজোতে গভীর রাতে জঙ্গলের ভেতর তিথি মেনে বলি দেওয়া হয়।

বলা হয়ে থাকে, বলির সময় বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না জঙ্গলের মধ্যে। প্রাচীন মন্দিরের পশ্চিম প্রান্তের দালানে এক সময় নরবলি হত। পরে সেই নরবলি বন্ধ হয়ে যায়। তার পরিবর্তে মোষ বলি চালু হয়। মহাষ্টমিতে দেবীকে বিশেষ ভোগ দেওয়া হয়। হাঁসের ডিমের ভোগ দেওয়া হয়। তারও নিয়ন রয়েছে, নতুন মাটির হাঁড়িতে জল ও সমগ্র সামগ্রী ভরে শাল পাতা দিয়ে হাঁড়ির মুখ বন্ধ করে উনুনে তিনটি কাঠের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ঘরের দরজা তালাচাবি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা মনে করেন। স্বয়ং দেবী এসে ভোগ রান্না করেন।

মন্দিরের দেবী অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা। ১৯৬০ সালে আসল মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। তারপরে ৬ বছর পরে গোপিনাথের বংশধররা অষ্টধাতুর একটি দূর্গার মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে নিয়ম মেনে পুজো হয়ে চলেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments