কণাদ দাশগুপ্ত
একটি স্বপ্ন, একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি, আর দীর্ঘ অধ্যবসায়ের পথ বেয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে পৌঁছনো। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের শিক্ষাজীবনের কাহিনি যেন সেই চেনা অথচ অনুপ্রেরণামূলক সত্যেরই পুনরাবৃত্তি—মেধা, পরিশ্রম আর শেখার অদম্য ইচ্ছা মানুষকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে!
১৯৬৪ সালে উত্তরপ্রদেশে জন্ম জ্ঞানেশের। গোরক্ষপুর, লখনউ ও কানপুরে কেটেছে তাঁর পড়াশোনার দিনগুলি। ছোটবেলা থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সালে হাইস্কুল এবং ১৯৮১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তরপ্রদেশ বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পর পর দু’বার বোর্ডের শীর্ষে থাকা নিছক পরীক্ষার সাফল্য নয়, ছিল ভবিষ্যতের দীর্ঘ যাত্রার প্রথম বড় পদক্ষেপ।
এর পর গন্তব্য আইআইটি কানপুর। ১৯৮৫ সালে সেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক সম্পূর্ণ করেন জ্ঞানেশ। কিন্তু জ্ঞানের পরিধি কোনও একটি বিষয়ের মধ্যে আটকে রাখেননি তিনি। আইসিএফএআই থেকে বিজনেস ফিনান্স এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইকনমিক্স নিয়েও পড়াশোনা করেন। প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও পরিবেশ—তিনটি পৃথক ক্ষেত্রের এই শিক্ষা তাঁর শিক্ষাজীবনকে দিয়েছে বিস্তৃতি।
১৯৮৮ সালে আইএএস হিসেবে কর্মজীবন শুরু। কেরল ক্যাডারে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পর কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদেও কাজ করেছেন তিনি। অবশেষে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৫ সালে আইআইটি কানপুর তাঁকে ‘ডিস্টিংগুইশড অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে সম্মানিত করে। উত্তরপ্রদেশ বোর্ডের পরীক্ষার খাতা থেকে হার্ভার্ডের পাঠ, সেখান থেকে প্রশাসনের দীর্ঘ পথ—জ্ঞানেশ কুমারের জীবনযাত্রা শিক্ষার শক্তি ও অধ্যবসায়ের মূল্য মনে করিয়ে দেয়।
———————–
তথ্যসূত্র: India Today এবং আইআইটি কানপুর-এর প্রাক্তনী- পরিচিতি




