Homeদেশপাহাড় কেটে তৈরি শৈবতীর্থ, কোথায় অবস্থিত এই তীর্থস্থান?

পাহাড় কেটে তৈরি শৈবতীর্থ, কোথায় অবস্থিত এই তীর্থস্থান?

কিভাবে যাবেন সেখানে জানুন-

ওয়েব ডেস্ক: কথায় আছে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কয়েকদিন ছুটি পেলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। দীঘা, পুরী, দার্জিলিং সহ বেশ কিছু জায়গায় বাঙালির তালিকাতে থাকেই। তবে অনেকে একটু ভিন্ন রকম জায়গায় ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। সবুজ পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর ঝর্নার কলতান শুনতে চাইলে ত্রিপুরায় এমন একটি রহস্যময় তীর্থক্ষেত্র রয়েছে। এই শিবতীর্থে ঘুরে আসতে পারেন। রহস্যময় এই তীর্থক্ষেত্র আপনাকে আলাদা আনন্দ দিতে পারে। এই তীর্থক্ষেত্রের বয়স প্রায় কয়েকশো বছর।

ত্রিপুরায় অবস্থিত এই রহস্যময় তীর্থের ইতিহাসও কম নয়। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা রয়েছে বিশালাকার কাল ভৈরবের মূর্তি। অসংখ্য প্রাচীন ভাস্কর্য আজও পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের আকর্ষণ করে। দেবতা দর্শন করার পাশাপাশি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য কেউ উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতেই পারেন উনকোটি থেকে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম রহস্যময় ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান উনকোটি। জঙ্গলের মধ্যে থাকা শিবের এই তীর্থ আলাদা ইতিহাস বহন করে। মনে করা হয় সপ্তম শতকে এই তীর্থ তৈরি হয়েছিল। কেদারনাথ টেম্পেল অত্যন্ত পুরনো। উনকোটি এই তীর্থটি কেদারনাথের থেকেও পুরনো বলে অনেকে মনে করেন। এই তীর্থক্ষেত্রটি দেখলে আলাদা অনুভূতি হতে পারে। তার কারণ এর অবস্থান। জঙ্গলের মাঝে পাথরে খোদাই করা একটি স্থান। অসাধারণ ভাস্কর্য দেখলে চোখ জুড়িয়ে যেতে বাধ্য। পাশাপাশি এর সঙ্গে রয়েছে নৈসর্গিক দৃশ্য। সব মিলিয়ে উনকোটি যেন প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মিলনস্থান। খুব সময় নিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই জায়গায় তৈরি করেছে প্রকৃতি।
এখানকার বড় আকর্ষণ হল ‘উনকোটিশ্বর কাল ভৈরব’-র বিশাল মুখাবয়ব। প্রায় ৩০ ফুট উঁচু এই শিলামূর্তির জটাজালই প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ। জটার পাশেই দেখতে পাওয়া যায় সিংহবাহিনী দুর্গার মূর্তি, অন্য পাশে রয়েছে আরও একটি নারীমূর্তি। উনকোটিতে দুই ধরনের ভাস্কর্য দেখতে পাওয়া যায়। প্রথমত, পাহাড় কেটে তৈরি মূর্তি এবং সাধারণ পাথরের মূর্তি। এখানেই রয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাস-রিলিফ শৈলশিল্প। এছাড়া মাটিতে আংশিক ডুবে থাকা তিনটি বিশাল নন্দী মূর্তি এবং বড় আকারের গণেশ মূর্তিও পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

উনকোটি যেতে গেলে প্রথমে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে যেতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই উনকোটি। ধর্মনগর রেলওয়ে স্টেশন অথবা কুমারঘাট রেলওয়ে স্টেশনে নামা সুবিধাজনক। ধর্মনগর স্টেশন থেকে উনকোটির দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। ট্যাক্সি, অটো বা বাস নিলে প্রায় আধ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
আগরতলা থেকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় যেতে চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব এই শিবতীর্থে। এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন কোন সময় এখানে গেলে ভালো। উনকোটি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং ঘোরাঘুরির জন্যও আরামদায়ক। কিন্তু ধর্মীয় উৎসবের আবহ উপভোগ করতে চাইলে এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত ‘অশোক অষ্টমী মেলা’। এই মেলায় দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও পর্যটক এখানে আসেন। এছাড়াও জানুয়ারি মাসে একটি ছোট উৎসবেরও আয়োজন করা হয়। অনেকেই আছেন ভিড়, কোলাহল থেকে দূরে থেকে নিজের মতো সময় কাটাতে চান। অদ্ভুত জায়গা হিসেবে এই জায়গাটি অত্যন্ত পছন্দই হতে পারে পর্যটকদের।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments