কণাদ দাশগুপ্ত : গণতন্ত্রে নির্বাচন হবে, প্রার্থী থাকবেন, মনোনয়ন জমা পড়বে, হবে তার পরীক্ষা—কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন না! মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধার ছবিটা অনেকটা এমনই। এপস্টিন- বিতর্কে জড়িত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর রাজ্যসভায় যাত্রা কার্যত নিশ্চিত হওয়ার পথে। দুই নির্দল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান প্রায় ফাঁকা। ফলে ভোটের আগেই জয়ের আবহ তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরে।
এল মুরুগানের পদত্যাগে খালি হওয়া আসনে প্রার্থী করেছে বিজেপি হরদীপ পুরীকে। বিধানসভায় ১৬৪ জন বিধায়ক নিয়ে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা এমনিতেই নিরঙ্কুশ। ফলে ভোট হলে পুরীর জয়ের পথে বড় কোনও অঙ্কের বাধা ছিল না। কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিদায় পরিস্থিতিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
জবাবের deadline পেরিয়েও অনিশ্চয়তা, NCPI সাংসদদের অবস্থানে নতুন জটিলতা
মনোনয়ন পরীক্ষায় নির্দল প্রার্থী কান্তে সায়ান্না এবং রাজকুমার লোহানির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। ফর্ম ২৬-এ প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেস নেতা হেমন্ত কাটারে। যদিও রিটার্নিং অফিসার সেই আপত্তি খারিজ করে পুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন। এ বার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, মনোনয়ন সংক্রান্ত অভিযোগ যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি।
প্রশ্নটা এখানেই। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিজেপির কি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের প্রয়োজন ছিল? নির্বাচন মানে শুধু মনোনয়ন জমা ও বাতিলের আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রতিযোগিতার সুযোগও। শাসক দলের সংখ্যার জোরে জয় নিশ্চিত হতে পারে, কিন্তু সেই জয়কে ঘিরে প্রশ্ন উঠলে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকে না।
৫ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার পরেই স্পষ্ট হবে ভোটের প্রয়োজন পড়বে কি না। আপাতত রাজ্যসভায় পুরীর যাত্রা যতটা মসৃণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ততটাই অমীমাংসিত।




