কলকাতা: কলকাতার মেয়রের চেয়ার ছাড়তে তাঁর এক মুহূর্তও সময় লাগেনি। কিন্তু ৮ বছর পরেও মনের ভিতরে জমে থাকা অভিমানের ক্ষতটা যে শুকোয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। একদিন যাঁকে নিজের ‘স্নেহের কানন’ বলে কাছে টেনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই নেত্রীর কাছ থেকেই পাওয়া আঘাতের স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। ২০১৮ সালের সেই ঘটনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করলেন জল-শোভন।
শোভনের কথায়, ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর বিজয়া সম্মেলনীতে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন মমতা। কলকাতার উন্নয়ন দেখে প্রবাসী বাঙালিদের মুগ্ধতার কথাও জানিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি বলেছিলেন, শোভনের জন্য গর্ব হয়। অথচ সেই প্রশংসার রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বদলে গেল পরিস্থিতি।
২০১৮-র ২২ নভেম্বরের সেই কথোপকথন আজও ভুলতে পারেননি শোভন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন, ‘মেয়রটা কবে ছাড়বি?’ বিজয়া সম্মেলনীতে প্রশংসা আর তার ঠিক এক মাস পরেই পদত্যাগের তাগিদ—দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় খুঁজে পাননি শোভন। তাই আক্ষেপের সুরে প্রশ্ন ছুড়েছেন, সেদিনের প্রশংসা কি সত্যিই মন থেকে ছিল?
আরও পড়ুন:
শোভনের বক্তব্য, “আমি কিন্তু কোনও ফেভিকল লাগিয়ে চেয়ারে বসিনি। ছাড়তে আমার সময় লাগেনি।” ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণেই সেই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন শোভন। তারপর আর কখনও কলকাতা পুরসভায় যাননি। এমনকি দলের সভা-সমিতিতেও ক্রমশ ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।
ফিরহাদ হাকিমকেও নিশানা করেছেন শোভন। তাঁকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ফিরহাদকে। কিন্তু শোভনের পাল্টা প্রশ্ন, “ববি কেন, কে ববি?”
রাজনীতির মঞ্চে দূরত্ব তৈরি হলেও মমতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুতো যে একেবারে ছিঁড়ে যায়নি, তার ইঙ্গিতও রয়েছে শোভনের কথায়। ভাইফোঁটায় এখনও মমতার কাছে যান তিনি। অভিমান রয়েছে, কিন্তু সেই অভিমানের আড়ালে রয়ে গিয়েছে এক পুরনো সম্পর্কের স্মৃতিও। আট বছর পরেও শোভনের কথায় তাই শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ নয়, ধরা পড়েছে হারিয়ে যাওয়া আস্থার যন্ত্রণা।




