ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এ বার পুরভোটের প্রস্তুতিতে সংগঠনের শক্তি যাচাইয়ে নামছে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলাভিত্তিক নেতৃত্ব ও কর্মীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। পুজোর মরশুম শেষ, এখন রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করতে পারেন তিনি। নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, এই তালিকার অন্যতম উদ্দেশ্য, সাংগঠনিক বিভাজনের মধ্যে কোন জেলার কত জন নেতা ও কর্মী মমতার পাশে রয়েছেন, তা চিহ্নিত করা।
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের আবহে এই উদ্যোগের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির, অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী গোষ্ঠী। দলীয় নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বিবাদও চলছে। এই পরিস্থিতিতে পুরভোটের প্রার্থী বাছাইয়ের আগে নিজেদের অনুগত নেতৃত্ব ও কর্মীদের অবস্থান স্পষ্ট করে নিতে চাইছে কালীঘাট শিবির বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
মমতা শিবিরের ঘনিষ্ঠ নেতৃত্বের বক্তব্য, জেলাভিত্তিক তথ্য ভবিষ্যতে সংগঠন মজবুত করার কাজেও লাগবে। পাশাপাশি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি ওই শিবিরের। বিজেপি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ মেলেনি।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। দাবি, গত কলকাতা পুরবোর্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ কাউন্সিলর এখনও মমতার শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন। যদিও এই হিসাবের স্বাধীন যাচাই হয়নি।
কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ এবং হাওড়ায় ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮ হয়েছে। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ের পরিসরও বেড়েছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যদিও চূড়ান্ত দিনক্ষণ সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে, পুরভোটের প্রস্তুতি শুধু প্রার্থী খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলীয় বিভাজনের আবহে সংগঠনের প্রকৃত শক্তি যাচাই, অনুগত নেতৃত্বকে চিহ্নিত করা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক লড়াইয়ের কৌশল নির্ধারণ—এই তিনটি বিষয়ই মমতা শিবিরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




