কণাদ দাশগুপ্ত
চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় নিয়ে রাজ্য বিজেপির অবস্থান জানতে চাইছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কলকাতার এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পরে দলের ভাবমূর্তি এবং আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হতে পারে বলে খবর।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, চোরবাগান-কাণ্ডে কোনও সাংগঠনিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পুজো কমিটির সঙ্গে বিজেপির একাধিক নেতার যোগ থাকার বিষয়টি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে দলের অভ্যন্তরেও। ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক বিপর্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, রাজনৈতিক ভাবমূর্তির প্রশ্নও জড়িয়ে পড়ছে। চোরবাগানের পুজো কমিটির সঙ্গে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের নাম জড়িয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার অর্থই বিপর্যয়ের জন্য তাঁদের দায় প্রমাণিত হওয়া নয়। ঘটনার তদন্তের মধ্য দিয়েই দায় নির্ধারণ হওয়ার কথা।
ঘটনার পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের ঘোষণা ও বারবার বাঁশি বাজানোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। চোরবাগানের মৃতদের বড় অংশ কলকাতা ও হাওড়ার বাসিন্দা। তাই এই ঘটনার প্রভাব পুরভোটের প্রচারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। এখন নজর, রাজ্য নেতৃত্ব কী রিপোর্ট দেয় এবং সাংগঠনিক দায় নিয়ে দল কী অবস্থান গ্রহণ করে।




