কণাদ দাশগুপ্ত : কেমব্রিজের একটি ছোট গ্রিক রেস্তরাঁ। পরিচয় এক বন্ধুর মাধ্যমে। আর প্রথম সাক্ষাতেই মনে হয়েছিল, এই মানুষটির সঙ্গেই কাটানো যায় গোটা জীবন। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম দেখা এবং প্রেমের শুরুর সেই স্মৃতি এ বার প্রকাশ্যে আনলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর স্মৃতিকথা Belonging: A Journey of Love প্রকাশের আগে একটি ভিডিয়োয় ব্যক্তিগত জীবনের আবেগঘন অধ্যায়ের ঝলক ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে পড়াশোনা করছিলেন সোনিয়া। তখনই পরিচয় হয় রাজীবের সঙ্গে। ইংল্যান্ডের খাবার তাঁর বিশেষ পছন্দ ছিল না। নিজের পরিচিত ইতালিয় খাবারের স্বাদ পেতে প্রায়ই এমন রেস্তরাঁর খোঁজ করতেন, যেখানে সেই ধরনের খাবার পাওয়া যায়। সেই সূত্রেই বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হয় ‘দ্য ভার্সিটি’ নামে একটি গ্রিক রেস্তরাঁর। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের পাশাপাশি ভারতীয় ছাত্রদেরও যাতায়াত ছিল সেখানে। আর সেখানেই এক সাধারণ বন্ধুর মাধ্যমে রাজীবের সঙ্গে পরিচয় সোনিয়ার।

সেই প্রথম সাক্ষাতের কথা মনে করে সোনিয়া জানিয়েছেন, রাজীবের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মনে হয়েছিল, এই মানুষটির সঙ্গে তিনি জীবন কাটাতে চাইবেন। রাজীবের সুদর্শন চেহারা তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল ঠিকই, তবে তার চেয়েও বেশি নজর কেড়েছিল তাঁর শান্ত ও কোমল স্বভাব। রাজীবের সেই মৃদু স্বভাব তাঁকে গভীর ভাবে স্পর্শ করেছিল বলেও জানিয়েছেন সোনিয়া।
প্রথম পরিচয়ের পর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দু’জনের মধ্যে। বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া, ঘুরে বেড়ানো এবং ভ্যালেন্টাইনস ডে-র পার্টিতে যোগ দেওয়ার মতো সাধারণ মুহূর্তেই ক্রমশ গভীর হয় তাঁদের সম্পর্ক। ১৯৬৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোনিয়া ও রাজীব।
আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়ার স্মৃতিকথা *Belonging: A Journey of Love*। ইতালিতে তাঁর শৈশব, রাজীবের সঙ্গে প্রেম ও বিবাহ, ভারতে এসে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিগত শোক এবং রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় উঠে আসবে বইটিতে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আততায়ীদের হাতে রাজীবের মৃত্যুর ঘটনাও তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরিচিত সোনিয়াকে এ বার পাঠকেরা দেখবেন ব্যক্তিগত স্মৃতি, ভালোবাসা ও হারানোর বেদনার পরিসরেও।




