আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দে মাতোয়ারা বাংলাদেশের বাঙালিরাও। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। শুধু হিন্দুরাই নয়, বাংলাদেশের মুসলিমরাও এই উৎসবে সামিল হয়েছেন। বাংলাদেশের অন্যতম মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুজোর প্রস্তুতিতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। এখানেই বেঁধেছে ঐক্যের সুর।
দুর্গাপুজো উপলক্ষে মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ওয়েল্ডিং ও বিজ্ঞাপন লাগানোর কাজও শেষ। পুজো উপলক্ষে মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমে। যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তারজন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে প্রস্তুতিতে যারা ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই হিন্দু নন। কিন্তু উৎসবের আমেজে মেতেছেন তাঁরাও।
সূত্রের খবর, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবারের খরচ প্রায় দেড় কোটি। মন্দিরে আসার কথা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের। শুধু তাই নয়, অষ্টমীর ভোগ বিতরনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনের দিনেশ ত্রিবেদী।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পাশাপাশি তাতিবাজার ও শাঁখারী বাজারেও পুজোর আমেজ টের পাওয়া গিয়েছে। এবারও অলিতে গলিতে বহু মাতৃ মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। বাজার সারতে সারতে অনেকেই প্রতিমা দর্শনও করেছেন। নিয়ম করে সপ্তমীর সকালে সম্পন্ন হয়েছে নবপত্রিকা স্নান। তারপরে সমস্ত নিয়ম নীতি মেনে হয়েছে পুজো।
শুধু ঢাকাই নয়, পুজোর আনন্দে মাতোয়ারা বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাগুলো। কলকাতাতে থিমের প্রাচুর্য বেশি থাকলেও, বাংলাদেশে পুজোর অভিনবত্ব নজর কাড়ে। সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপুজো মন্দিরে দেড় লাখেরও বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতো দিয়ে তৈরি হয়েছে দুর্গার পোশাক ও অলংকার। গত বছরও ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল দুর্গাপ্রতিমা। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ঘোষবাড়ি সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপে এক মণ ডাল দিয়ে তৈরি হয়েছে প্রতিমা। প্রায় আড়াই মাস ধরে খুলনা থেকে আসা ছ’জন কারিগর প্রতিমা তৈরি করেছেন।
জানা গেছে, এবছর গোটা বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। দেশের মধ্যে উৎসব নিয়ে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।




