Homeদেশ২,০০০ বাঁশ, ৪০০ প্লাইউডে তিরুপতি বালাজি মন্দির!

২,০০০ বাঁশ, ৪০০ প্লাইউডে তিরুপতি বালাজি মন্দির!

কোথায় গেলে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা?

ওয়েব ডেস্ক: পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে গিয়েছে। বাংলা জুড়ে এখন আকাশে বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন নিয়মে পূজিত হয়ে থাকেন মহামায়া। বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি বিদেশেও মাতৃ আরাধনা হয়ে থাকে। বাংলার পাশাপাশি পালামৌ জেলায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। ভক্তদের আকৃষ্ট করতে পুজো কমিটিগুলো বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করছে। তারমধ্যে কিছু প্যান্ডেলে দেশের বিভিন্ন বিখ্যাত মন্দিরের আদল ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় পাশাপাশি, আকর্ষণীয় সাজসজ্জা দিয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করার প্রচেষ্টায় পুজো কমিটি গুলো।

সূত্রের খবর, পাবলিক দুর্গাপুজো কমিটি এই বছর মেদিনীনগরের ভারত মাতা চকের কাছে তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মাণ করছে। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে এই প্যান্ডেলটি তৈরি করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের জন্য।

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্যান্ডেল নির্মাণে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। গত দেড় মাস ধরে প্যান্ডেলটির কাজ চলছে। মণ্ডপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ফুট রাখা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যেন মেদিনীনগরেই তিরুপতি বালাজি মন্দিরের জাঁকজমকের এক ঝলক দেখতে পান তার প্রচেষ্টা চলছে। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে দুই বছর আগে তৈরি করা প্রোটোটাইপ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিরুপতি বালাজি মন্দিরের একটি মডেল তৈরি করা হচ্ছে।

মণ্ডপ তৈরি করতে বাঁশ, প্লাইউড এবং সোনালি রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি আকর্ষণীয় নকশা তৈরি করার কাজ চলছে। প্যান্ডেলটি নির্মাণে প্রায় ২,০০০ বাঁশ এবং ৮০০ সিএফটি কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, ছয় বাই চার ফুটের প্রায় ৪০০টি প্লাইউড শিট লাগানো হচ্ছে। এবার প্যান্ডেল তৈরিতে কাপড় ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরিবর্তে, সোনালি রঙ এবং ফোম মডেল ব্যবহার করে প্লাইউডের উপর মন্দিরের নকশা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্যান্ডেলটিকে একটি ভিন্ন ও আকর্ষণীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারের কাছে একটি এলইডি স্ক্রিনও স্থাপন করা হবে, যা ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হবে। ১৫ ফুট উঁচু একটি মূর্তিতে দেবী দুর্গার এক অনন্য রূপ তুলে ধরা হবে।

শুধু প্যান্ডেলের কারুকার্য বা সাজ সজ্জাই নয় পাশাপাশি দেবী দুর্গার প্রতিমাতেও বিশেষ ছোঁয়া থাকবে। প্রায় ১৫ ফুট উঁচু একটি প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। প্রচলিতভাবে আমরা যে মা দুর্গার রূপ দেখতে পাই, এখানে তার থেকে আলাদা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। প্রতিমা শিল্পী ও কারিগরদের বিশেষ নকশা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাটি তৈরি করতে কলকাতা থেকে আনা মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্যান্ডেল ও প্রতিমার এই অনন্য রূপ ভক্তদের আকর্ষণ করবে।

এখানে ১৯৮০ সাল থেকে দুর্গাপুজো আয়োজিত হয়ে আসছে। এই কমিটির পুজোর ঐতিহ্য ৪৬ বছর ধরে চলে আসছে। এবার বিশাল প্যান্ডেলের পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী ভোজেরও আয়োজন করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments