ওয়েব ডেস্ক: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও নীরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে কলকাতা পুলিশের তদন্তে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ক্রমশ চাপ বাড়ছে ইন্দ্রনীলের উপর, অন্যদিকে তাঁর গ্রেপ্তারিকে হাতিয়ার করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করছে বিজেপি থেকে বাম নেতৃত্ব। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রমণে কার্যত একসুর শোনা যাচ্ছে।
ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, ইন্দ্রনীল একা আর্থিক সুবিধা নেননি, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ভাগ থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, মমতা ও ইন্দ্রনীল একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও দাবি করেছেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই আর্থিক অনিয়মের সুবিধা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে থাকতে পারেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারির পরে মমতা কি পরবর্তী তদন্তের আশঙ্কায় নীরব?
শুধু বিজেপি নয়, বাম শিবির থেকেও একই ধরনের আক্রমণ এসেছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের কাছ থেকে সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন মমতা। যদিও এই সমস্ত বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ, তদন্তে তার কোনও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিলেও তার পরে কালীঘাটের নেতৃত্ব কার্যত নীরব। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ইন্দ্রনীল নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের নির্দোষ হওয়ার কথা বলতে পারতেন। এই পরিস্থিতিতে দল কেন মন্তব্য করবে?
তৃণমূলের একাংশের মতে, প্রাক্তন মন্ত্রীদের গ্রেপ্তারির ঘটনায় মমতার নীরব থাকা নতুন নয়। তবে ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণে এবারের নীরবতা ঘিরে প্রশ্ন আরও তীব্র হয়েছে।




