ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ফেরানো, নতুন বিনিয়োগ টানা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছে নবান্ন।
রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিল্পনীতির খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন সভাঘর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতি প্রকাশ করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা শিল্পমহলের প্রতিনিধিদেরও। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে নীতির খসড়া তৈরি হয়েছে।
নতুন শিল্পনীতির মূল লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া এবং জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা। বিশেষত ১০০ একরের বেশি জমি প্রয়োজন, এমন বৃহৎ শিল্পপ্রকল্পের অনুমোদন দ্রুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জমি নিয়ে যাতে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা বা অনাবশ্যক দখলের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে দিকেও কড়া নজর দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
শিল্পমহলের প্রত্যাশা, নতুন নীতিতে বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানকে সরাসরি যুক্ত করা হবে। সুদে ভর্তুকি, রাজ্য জিএসটি ফেরত এবং কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে নিয়োগকর্তার অবদানের একাংশ ফেরানোর মতো প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে শিল্প গড়লে বিশেষ সুবিধার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে শিল্পনীতি ঘোষণাই শেষ কথা নয়। বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন জমির নিশ্চয়তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দক্ষ শ্রমিক এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা। প্রস্তাবিত সুবিধাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার উপরই নির্ভর করবে নতুন নীতির সাফল্য। শিল্পমহলের কাছে তাই ৫ নভেম্বরের ঘোষণা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ তার সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন।




