ওয়েব ডেস্ক: কলকাতার অলিতে গলিতে রয়েছে বিভিন্ন রহস্য। বহু বছর ধরে তারা ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। উত্তর কলকাতায় এক গলিতে রয়েছে রহস্যময় মন্দির। শ্যামবাজার ঘোমটা কালী মন্দির হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষ এই মন্দিরকে ছোট ভবতারিণী মন্দির নামেও জানে।
শ্যামপুকুর থানার কাছে বলরাম ঘোষ স্ট্রিটের ডান দিকে রয়েছে এই কালী মন্দির। গর্ভগৃহে কষ্টিপাথরের দক্ষিণাকালী ভবতারিণী নামে বৈষ্ণবমতে নিত্য পূজিতা। কালী মূর্তিটি ঘোমটা দেওয়া, তাই এঁকে অনেকে ঘোমটা কালী বলে থাকেন। মন্দিরের গর্ভগৃহের একদিকে নারায়ণ শিলা, কৃষ্ণ-রাধিকা মূর্তি, গণেশ, একটি কৃষ্ণ মূর্তি নিত্য পূজিত হন। এছাড়া মন্দিরের দু’পাশে দুটি আটচালা শিব মন্দিরে রয়েছে । সেখানে পুজো হয় হরেশ্বর এবং হরপ্রসন্ন, দুই কষ্টিপাথর নির্মিত শিবলিঙ্গের। দক্ষিণেশ্বরের আদলে নবরত্নশৈলীতে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে।
কথিত রয়েছে, বলরাম ঘোষের উত্তরসূরি তুলসীরাম ঘোষ দেবী কালিকাকে স্বপ্নে দেখেছিলেন। মাকে ঘোমটা পরিহীত অবস্থায় যেভাবে স্বপ্নে দেখেছিলেন সেভাবেই মূর্তি তৈরি হয়েছেল। প্রথমে স্বপ্নে দেখে মুক্তি আঁকা হয়েছিল। তুলসীরামের পুত্রবধূ দয়াময়ী দেবী মন্দির তৈরি শুরু করেন এবং তুলসীরামের আঁকানো ছবি অনুযায়ী কালী মূর্তি তৈরি করান। দয়াময়ী দেবীর অবর্তমানে তাঁর পুত্র সারদাপ্রসাদ ঘোষ মন্দির তৈরির কাজ শেষ করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর কৃপায় যেকোনও বিপদ থেকে পরিত্রাণ মেলে। কালী মূর্তির স্বাভাবিক রূপ থেকে একটু অন্য রকম এই মূর্তি। তাই এই মন্দিরের মূর্তি আলাদা মাত্রা পেয়েছে। মন্দিরটি হেরিটেজ তকমা পেয়েছে।




