কণাদ দাশগুপ্ত
দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সমাবেশে একই সারিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। অথচ বাংলায় মমতাকে লাগাতার আক্রমণ করছেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তী। এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরেই ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
মমতা-বেবির একমঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সুজন স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটে যা-ই হোক, বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে কোনও আপসের প্রশ্ন নেই। রাজ্যে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর বিজেপি- বিরোধী সব শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করেছিলেন বাংলার বাম নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দিল্লিতে বিরোধী ঐক্য থাকলেও বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে জোটের কোনও রাজনৈতিক সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যেই ঐক্যের বার্তা দিয়ে মমতাকে চিঠি দিয়েছিলেন এম এ বেবি। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। এ বার দিল্লিতে বেবির সঙ্গে মমতাকে পাশাপাশি দেখে ফের সরব সুজন চক্রবর্তী। পাল্টা তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, জাতীয় রাজনীতিতে সময়ের দাবি মেনে ঐক্য সম্ভব হলে বাংলায় সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?
বাম-তৃণমূলের এই ‘দোস্তি-কুস্তি’ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপিও। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের দাবি, দুই শিবিরের রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। অন্যদিকে বিধায়ক সজল ঘোষের কটাক্ষ, বিরোধীরা রামকে অস্বীকার করলেও রামলীলা ময়দানেই জড়ো হয়েছেন। সেখান থেকেই তাঁদের ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে দিল্লির বিরোধী ঐক্যের ছবি বাংলায় বাম-তৃণমূল সম্পর্কের পুরনো সংঘাতকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল। প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতা কি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থানেও কোনও পরিবর্তন আনবে?




