ওয়েব ডেস্ক: গ্রামীণ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে দেশের মধ্যে একেবারে পিছনের সারিতে পশ্চিমবঙ্গ। বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে শ্রমদিবস তৈরির গতি অত্যন্ত হতাশাজনক। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের কাজে গতি আনতে এবার সরাসরি প্রশাসনিক নজরদারিতে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা বা রাজ্যস্তরের বৈঠকে সীমাবদ্ধ না থেকে একেবারে ব্লকস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার শিকড় খুঁজতে চাইছে নবান্ন।
আগামী ৪ নভেম্বর বিধাননগরের পঞ্চায়েত ভবন থেকে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়ার কথা এই বৈঠক। সেখানে রাজ্যের সমস্ত ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও-র সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি। উপস্থিত থাকার কথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক এবং পঞ্চায়েত দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের। চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের জন্য ৩০ কোটি শ্রমদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। অথচ এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫০ লক্ষ শ্রমদিবস। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কোথায় প্রশাসনিক গাফিলতি, কেন প্রকল্পের কাজ প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। ব্লকস্তরে কাজের বাধা চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশও দিতে পারেন তিনি।
শুধু পর্যালোচনাতেই থেমে থাকতে চাইছে না রাজ্য সরকার। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, আদর্শ পঞ্চায়েত ভবন নির্মাণ এবং পুকুর খননের মতো নতুন প্রকল্পও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা এসওপি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, কাগজে-কলমের লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবের কর্মসংস্থানে পরিণত করা। মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই ছবির কতটা বদল হয়, নজর থাকবে সেদিকেই।




