ওয়েব ডেস্ক: রাজ্য বিজেপির সংগঠনে নতুন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া ঘিরে শুরু হয়েছে অস্বস্তি। সাংবাদিক প্রীতি নুনিয়াকে (চৌহান) পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র নিয়োগ করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ১ নভেম্বর এই নিয়োগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই দলের অন্দরে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক অবদান এবং দলের কঠিন সময়ে তাঁর ভূমিকা কতটা, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে পদ্মশিবিরের একাংশের মধ্যে।
দলীয় সূত্রে খবর, নতুন নিয়োগ নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে কয়েকটি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে লড়াই করা একাধিক নেতা-কর্মী যখন সাংগঠনিক স্বীকৃতির অপেক্ষায়, তখন তুলনায় কম পরিচিত একটি মুখকে রাজ্য মুখপাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও প্রকাশ্যে এই নিয়োগের বিরোধিতা করে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি।
প্রীতি নুনিয়া পেশায় সাংবাদিক। তাঁর আদি বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে থাকেন। নিয়োগের পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তবে বিজেপির মতো বড় রাজনৈতিক সংগঠনে মুখপাত্রের দায়িত্ব শুধু সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের বক্তব্য তুলে ধরা নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক বোধ, সংগঠনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দেওয়ার দক্ষতা। সেই জায়গা থেকেই নতুন নিয়োগের যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা। শমীক ভট্টাচার্যের এই সিদ্ধান্তের পিছনে কী সাংগঠনিক সমীকরণ কাজ করেছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে নতুন দায়িত্বে প্রীতি কতটা দক্ষতার পরিচয় দেন, শেষ পর্যন্ত সেটাই হবে তাঁর নিয়োগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।




