ওয়েব ডেস্ক: রেজিনগরের উপনির্বাচনে ৭২ হাজার ৭১০ ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। এই সাফল্যের পর সাংবাদিক বৈঠকে বসে মুখ্যমন্ত্রী ধন্যবাদ জানালেন সংখ্যালঘুদের। রেজিনগরের উপনির্বাচনে বড় জয়ের পিছনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থনকেই অন্যতম কারণ বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিরোধীদের প্রচার সত্ত্বেও তাঁরা বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিনগরে এত বড় জয় আসত না, যদি সংখ্যালঘুরা আমাদের সঙ্গে না থাকতেন। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীকে আশীর্বাদ করেছে মানুষ। রেজিনগরে আমাদের প্রাপ্ত ভোটের বেশিটাই সংখ্যালঘুদের দেওয়া।
জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান সংখ্যালঘুদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন ধরে বিজেপিকে নিয়ে সংখ্যালঘু মহলে যে অপপ্রচার চলেছে, তা গত ৫ মাসে মিথ্যা বলে বুঝতে পেরেছেন জনতা। আর তাই নির্দ্বিধায় বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন বলে মত শুভেন্দু অধিকারীর।শুভেন্দুর দাবি, সংখ্যালঘুদের মনে বিজেপি সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, ভোটাররা তা আমল দেননি। বরং তাঁরা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রেজিনগরের ফলকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু ভোটকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রেজিনগরের ফলের মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণে পরিবর্তনের বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি। তবে একটি কেন্দ্রের ফল থেকে গোটা রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের প্রবণতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। এই সমর্থন কতটা স্থায়ী এবং আগামী পুরসভা নির্বাচনেও তার প্রতিফলন ঘটে কি না, সেটাই এখন দেখার। শুভেন্দুর বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব এখানেই—বিজেপি যে শুধু নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায়ের ভোটের উপর নির্ভর না করে বৃহত্তর সামাজিক সমর্থন গড়ে তুলতে চাইছে, সেই বার্তাই সামনে আনতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।




