ওয়েব ডেস্ক : ভোটচুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নামছে বিজেপি। দেশের একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি সোমবার কলকাতাতেও ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ মিছিলের আয়োজন করেছে গেরুয়া শিবির। মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলে কলকাতার এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এর আগে রবিবার হরিয়ানার রোহতকে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে একই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লি ও হরিয়ানার পাশাপাশি সিমলাতে বিজেপির মিছিলের নেতৃত্ব দেন অনুরাগ ঠাকুর-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে বিজেপির এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক পাল্টা প্রচার হিসাবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। একদিকে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করতে চাইছে।

এদিকে রবিবারই পাঞ্জাবে শিখ আবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার স্মৃতিবিজড়িত দিন নিয়ে বিরোধীদের জেদ রয়েছে। এই ইস্যুতে বিরোধীদের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
এই রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই কলকাতায় সোমবারের মিছিলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। সর্বভারতীয় সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রীর একসঙ্গে উপস্থিতি রাজ্য সংগঠনের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনের শক্তি, নেতৃত্বের সমন্বয় এবং রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার মঞ্চ হিসাবেও এই কর্মসূচিকে ব্যবহার করতে চাইছে পদ্মশিবির। দিল্লির বিরোধী সমাবেশের পাল্টা বাংলার রাজপথ থেকেও জাতীয় রাজনীতিতে বার্তা পৌঁছে দেওয়াই বিজেপির লক্ষ্য। ফলে এই মিছিল ঘিরে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ একসঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে।




